পুঁজির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিজের টেইলরিং শপ ফের চালু করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মেহেদী হাসান। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তিনি এখন স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও দুজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন। ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে মেহেদীর এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরেছেন। শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, জুব্বা ও থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের পোশাক কাটিং ও সেলাইয়ে মেহেদী হাসানের এক যুগের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও চট্টগ্রামে টানা ১২ বছর তিনি সিনিয়র কারিগর ও কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করেছেন। একসময় নিজের ছোট একটি টেইলরিং শপ থাকলেও পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে অন্যের দোকানে উৎপাদনভিত্তিক কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু অনিয়মিত কাজ ও সীমিত আয়ের কারণে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদ মৌসুম ছাড়া বছরের অন্য সময় কাজের সংকট দেখা দিত। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতেও হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। এমন কঠিন সময়ে মেহেদী হাসানের পাশে দাঁড়ায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের ‘দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্প’-এর আওতায় তাঁকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এই অর্থে সেলাই মেশিন, লক মেশিন, দোকানের সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনা হয়। এই সহায়তায় মাটিরাঙ্গায় নিজের টেইলরিং শপটি আবার চালু করেন মেহেদী। বর্তমানে তাঁর দোকানে দুজন সহযোগী কাজ করছেন, যাঁদের একজন বেতনভুক্ত কারিগর এবং অন্যজন নতুন করে কাজ শিখছেন।

এভাবে শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমানে মাসে গড়ে ১৬ হাজার টাকা আয় করছেন মেহেদী। এতে পরিবারের আর্থিক সংকট অনেকটাই কেটে গেছে, মায়ের চিকিৎসাও চলছে নির্বিঘ্নে। দক্ষতা, পরিশ্রম ও সঠিক সহযোগিতা পেলে প্রতিকূলতা কাটিয়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, মেহেদী হাসানের গল্প তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।