চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দক্ষিণ আফ্রিকায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার প্রবাসী ব্যবসায়ী মারুফ বেপারি (৪৩) কে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় প্রবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় চাঁদাবাজদের দাবি করা চাঁদা পরিশোধ না করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যুর খবর দেশের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। নিহত মারুফ বেপারি ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় ১৪ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছিলেন মারুফ। সেখানে কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় তিনি দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় প্রবাসীদের অভিযোগ, ওই এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রতিমাসে তার কাছে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড চাঁদা দাবি করত। নিহতের ভাতিজা কামরুজ্জামান বেপারি জানান, গত তিন মাসের মধ্যে তার কাকার দোকান দুই মাস বন্ধ ছিল এবং মাত্র এক মাস খোলা ছিল।

এ কারণে মারুফ শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চাঁদাবাজরা তিন মাসের চাঁদাই দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে মারুফকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে মারুফ বেপারির মরদেহ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা চেয়েছেন শোকসন্তপ্ত স্বজনরা। এ বিষয়ে সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, প্রবাসীরা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্বজনদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।