যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা ভবন সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরির পাশে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা সরকারি প্রায় সাত শতক জমি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই জমিটি উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটা থেকে উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের সমন্বিত এক অভিযানে এই জমিটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
উদ্ধারকৃত এই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দখলে ছিল বলে জানা গেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, পৌর ভবন সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমিতে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পাবলিক লাইব্রেরি এবং সরকারি প্রভাতি বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, ১৯৯৬ সালের দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একটি প্রভাবশালী চক্র নামমাত্র ডিসিআর (DCR) দেখিয়ে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে নেয়। সেখানে তারা মুরগির দোকান, মুদি দোকান, মিষ্টির দোকান এবং কসমেটিকসের বেশ কিছু দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে এবং পৌর শহরের নাগরিকদের তীব্র দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ওই বিতর্কিত ডিসিআর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন পৌরসভার মেয়র এবং কতিপয় কাউন্সিলর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখল করেন এবং সেখানে পাঁচটি টিনশেডের দোকান নির্মাণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই টিনশেডের দোকানগুলো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।
অবৈধভাবে নির্মিত এই দোকানগুলোর কারণে সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে মুরগির দোকানের উৎকট গন্ধ চারপাশের পরিবেশকে দূষিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল। এই কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এমনকি তৎকালীন জেলা প্রশাসক উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে সেই আদেশ কার্যকর করা হয়নি, যা জনমনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছিল।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালীন অফিস সহকারী জমিরুল ইসলাম জানান, মূলত পাবলিক লাইব্রেরির জন্য সরকার ১৫ শতক জমি বন্দোবস্ত দিয়েছিল, যার একটি অংশ দীর্ঘকাল ধরে দখল করে রাখা হয়েছিল। লাইব্রেরির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে জমি উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার বিকেলে সফলভাবে জমিটি উদ্ধার করা হয়।
তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে ওই স্থান এবং থানা ভবনের উত্তর পাশে অবস্থানরত মুরগির দোকানিদের জন্য মাছবাজারের দ্বিতীয় তলায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে দোকান দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর সরকারি জমি উদ্ধারের এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরামপুর পৌর এলাকার সাধারণ নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।




















