মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঋণের বোঝা ও পারিবারিক সংকটের হতাশায় কুব্বাত আলী বেপারী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত কুব্বাত আলী ওই গ্রামের মৃত পাহালি বেপারীর পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুব্বাত আলীর দুই ছেলে প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। তবে বড় ছেলে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করলেও বাবাকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, তার ছোট ছেলেও বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত আয় করতে সক্ষম হননি। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝে পারিবারিক চরম আর্থিক সংকটের পাশাপাশি কয়েক লাখ টাকা সুদে নেওয়া ঋণের চাপে দীর্ঘকাল ধরে ভুগছিলেন কুব্বাত আলী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার সকালে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে কুব্বাত আলী নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান এবং বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হাশেম জানান, ‘কুব্বাত আলীর বড় ছেলে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন করেননি এবং তেমন কোনো টাকা-পয়সা পাঠাতেন না। ছোট ছেলেও দালালের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে ভালো আয় করতে পারেননি। ফলে কুব্বাত আলী ঋণের জালে আটকা পড়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।’

ঘটনার বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসাইন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কুব্বাত আলী আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।