চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এখনো পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছে, তাদের জন্য কোনো সুযোগ নেই। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অপরাধের প্রশ্নে কোনোভাবেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাকিবুল ইসলাম রাকিব এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমরা দ্রুত রায় ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলাম, যদিও সেই সময় আমরা পুরোপুরি সফল হয়ে উঠিনি। তবে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় আসার পরপরই এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি সরকার মুখে নয়, বরং কাজে বিশ্বাসী—তা তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির কথা স্মরণ করে রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, জুলাই-আগস্টের এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক শহীদ হয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির প্রায় চার শতাধিক নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত সাড়ে ১৭ বছরের দুঃশাসনের সময়ে শত শত বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, যাদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। এই সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে বর্তমান সরকারের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, শুধু জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়, বরং বিগত সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো সব নৃশংসতার সাথে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতের চূড়ান্ত রায় প্রদান করা অপরিহার্য। তিনি জানান, শহীদ আবু সাঈদসহ বেশ কিছু মামলার রায় ইতিমধ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং খুনি হাসিনা সহ সংশ্লিষ্টদের রায় হয়েছে। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

ছাত্রদল সভাপতি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এখনো পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আবু সাঈদের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা জুলাই-আগস্টের শহীদ ভাইদের রক্তের সাথে কোনো প্রতারণা বা বেঈমানি করব না। যারা এমন চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।"

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের zahlreichen নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মোনাজাতের পর রাকিবুল ইসলাম রাকিব আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।