বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আমির খান তার ব্যক্তিগত জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে এক ঘরোয়া ও মার্জিত আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন এই তারকা অভিনেতা। গত রবিবার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজস্ব বাসভবনে নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা। সাধারণত বলিউডে যে ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন দেখা যায়, তার পরিবর্তে আমির ও গৌরী অত্যন্ত ছোট পরিসরে এবং কেবল পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই এই বিশেষ মুহূর্তটি উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।
এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে আমিরের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ উপস্থিত থেকে তাঁদের বাবার নতুন পথচলায় শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া দুই পরিবারের সদস্য এবং আমিরের অত্যন্ত কাছের বন্ধুরাও এই বিয়ের সাক্ষী হয়ে থাকেন। আমির খানের মুখপাত্র ভারতীয় গণমাধ্যমে এই বিয়ের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। অতিথিদের তালিকায় আরও ছিলেন ‘লাগান’ চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত নির্মাতা আশুতোষ গোয়ারিকার এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী এলি আব্রাম। এর আগে আমির নিজেই আভাস দিয়েছিলেন যে, তিনি বড় কোনো উৎসবের পরিবর্তে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিয়ে করে পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের বন্ধুদের নিয়ে একটি ছোট্ট উদ্যাপন করতে চান এবং শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়েছে।
আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাটের পরিচয় আজকের নয়, বরং তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল প্রায় ২৫ বছর আগে। তবে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের সম্পর্কটি কেবল বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বহু বছর পর ২০২৪ সালে আমিরের কাজিন নুজহাত খানের মধ্যস্থতায় বেঙ্গালুরুতে তাঁদের পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হয়। সেই পুনর্মিলন ধীরে ধীরে গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে রূপ নেয়। সম্পর্কের শুরুর দিকে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের চ্যালেঞ্জ ছিল; গৌরী তখন বেঙ্গালুরুতে বসবাস করতেন এবং আমির থাকতেন মুম্বাইয়ে। প্রায় এক বছর পর গৌরী তাঁর ছেলেকে নিয়ে মুম্বাইয়ে চলে আসেন এবং এরপর থেকেই তাঁরা একসঙ্গে জীবন অতিবাহিত করতে শুরু করেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে নিজের ৬০তম জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্তে প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। সেই সময় তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে জানিয়েছিলেন যে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে অনেক শান্ত এবং পরিপূর্ণ অনুভব করছেন। যদিও সে সময় বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন যে, এই বয়সে পুনরায় বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই; তবে গৌরীর সান্নিধ্যে তিনি নিজেকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক অনুভব করেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং গত মাসেই তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানান। অবশেষে রবিবার তাঁদের সেই প্রতীক্ষিত পরিণয় সম্পন্ন হলো।
এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ ও ইরা। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটলেও সন্তানদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে তাঁরা এখনো অত্যন্ত সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের পুত্র আজাদ জন্মগ্রহণ করে। ২০২১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হলেও পেশাগত ও পারিবারিক ক্ষেত্রে তাঁদের সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ। বর্তমানে কিরণ রাও আমির খান প্রোডাকশনসের বোর্ড সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ‘লাপাতা লেডিজ’সহ বেশ কয়েকটি সৃজনশীল প্রকল্পে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ‘পানি ফাউন্ডেশন’-এর মানবিক কার্যক্রমে আমির, কিরণ ও রীনা এখনো একযোগে যুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে, গৌরী স্প্র্যাটের পেশাগত জীবনের কথা বলতে গেলে, তিনি আগে একটি আন্তর্জাতিক হেয়ার কেয়ার প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি আমির খান প্রোডাকশনসের বিভিন্ন প্রশাসনিক এবং পরিকল্পনামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন এবং তাঁর দক্ষতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছেন।











