রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন: রাজধানীর বনানী ও মতিঝিল এলাকায় ভুয়া পাসপোর্ট ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, এই চক্রের মূলহোতা রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে নতুন অফিস খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদেশে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। পরে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ও

মো ওহিদুল ইসলাম (এজেন্ট) ১৭ লাখ টাকা এবং ১৭টি পাসপোর্ট।

মো ফারুক ১১ লাখ টাকা।

মো আলম ৯ লাখ টাকা।

সাজাহান ২০ লাখ টাকা এবং ২০টি পাসপোর্ট।

মো আহসান হাবিব ৫৩ লাখ টাকা এবং ২৮টি পাসপোর্ট। এর মধ্যে ২৪টি পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়েছে, তবে বাকি পাসপোর্ট ও অর্থ এখনো ফেরত পাননি বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের জানান, অনেকেই বিদেশে যাওয়ার আশায় জমি বিক্রি করেছেন, ঋণ নিয়েছেন কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছেন। কিন্তু প্রতারক চক্রের কারণে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমি রিপন মিয়াকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন ঋণের চাপে বাড়িতেও থাকতে পারছি না। আরেকজন জানান, আমার কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অফিস পরিবর্তন করে একই কৌশলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্ষতিগ্রস্তরা রিপন মিয়া ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়ারও দাবি করেন তারা।

তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।