গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাসার ম্যানেজারকে মারধর ও অপহরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অপহৃত ম্যানেজারের নাম মনির হোসেন। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন,টঙ্গীর ভাদাম এলাকার দীপু দেওয়ান (২৬), সাহিদুল ইসলাম জনি (৪০) ও টিপু দেওয়ান (২৮)। এদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন দীপু দেওয়ান টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে সভাপতি পদপ্রার্থী। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দীপু দেওয়ান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তারা জোরপূর্বক ওই বাসার ম্যানেজার মনির হোসেনকে দিয়ে বিভিন্ন মাদকসংশ্লিষ্ট কাজ করিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বাড়ির মালিক বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির তার ম্যানেজারকে দীপু দেওয়ানের কাছে যেতে নিষেধ করেন এবং তাকে সতর্ক করে নিজের হেফাজতে নিয়ে আসেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দীপু ও তার সহযোগীরা। তারা বিভিন্ন সময় আব্দুল কাদির ও তার ম্যানেজারকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে আব্দুল কাদিরের বাড়িতে চড়াও হয়।

বাড়িতে ঢুকেই তারা ম্যানেজার মনির হোসেনকে খুঁজতে থাকে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তারা বাড়ির মালিক আব্দুল কাদির ও তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা ম্যানেজার মনির হোসেনকে খুঁজে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং জোরপূর্বক অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়।

দীপু দেওয়ান একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী। প্রতিনিয়ত নেশাগ্রস্ত হয়ে এলাকায় মাতলামি ও বিশৃঙ্খলা করা তার স্বভাব। আমার ম্যানেজারকে সে অপকর্মে ব্যবহার করত। আমি বাধা দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাসায় হামলা চালায় এবং মনিরকে অপহরণ করে। এখন পর্যন্ত মনিরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন দিপু দেওয়ান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে আমিই হামলার শিকার হয়েছি। এ ঘটনায় আমি নিজেই টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।