যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নিতে ইরান সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে তার এই সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন প্রক্রিয়া চলবে। ইরানের রাজধানী তেহরান ছাড়াও পবিত্র নগরী কোম এবং মাশহাদে এই শোকাবহ ও রাজকীয় আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায় জানাতে এবং শোক প্রকাশ করতে আগামী জুলাই মাসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই সফর নির্ধারিত হয়েছে। কূটনৈতিক একটি সূত্র ইউএনবি-কে জানিয়েছে, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বিশেষ আমন্ত্রণে আগামী ৩ জুলাই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন তেহরানে পৌঁছাবেন। বাংলাদেশের স্পিকারকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রে ইরানি স্পিকার লিখেছেন, ‘এই ঐতিহাসিক ও মহিমান্বিত আয়োজনে আপনাকে আতিথেয়তা দেওয়ার সুযোগ পেতে আমরা আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা আগামী ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই তার প্রিয় শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক যৌথ অভিযানে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই আকস্মিক ও শোকাবহ ঘটনার পর ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল। দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং দাফন প্রক্রিয়ার নানা দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে আগামী জুলাই মাসে তার দাফনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।