দেশে আবারও একদলীয় শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দেশের সাধারণ মানুষ একদলীয় শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আরেকটি দলের লুটতরাজির রাজত্ব দেখার জন্য জীবন উৎসর্গ করেননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর শহরের তালতলা চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক বিশাল পদযাত্রা ও পথসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মূলত গণভোট বাস্তবায়ন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে এনসিপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এই পদযাত্রায় নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

পথসভায় উপস্থিত জনতার সামনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিগত সময়ে আমরা একদলীয় শাসনের চরম তিক্ততা দেখেছি। তখন কেউ কথা বলার সাহস পেত না, মত প্রকাশের চেষ্টা করলে গুম করে ফেলা হতো। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বাংলাদেশকে আবারও সেই একই একদলীয় শাসনের অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি সংসদের ভেতরেও আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা যখন সাধারণ মানুষের মাঝে গিয়ে জনসভায় কথা বলতে চাই, তখন আমাদের ওপর বোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।”

আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম কঠোর ভাষায় বলেন, “যদি কেউ আবারও এই দেশে একদলীয় শাসনের সূচনা করতে চায়, তবে তাদের জন্য আওয়ামী লীগের করুণ পরিণতি একটি বড় শিক্ষা হওয়া উচিত। টানা ষোলো বছর একদলীয় শাসন চালিয়ে আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে দিল্লীতে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রাকে বাধা দিতে তারা ককটেল ও বোমার সাহায্য নিয়েছিল, কিন্তু সখীপুরের সাহসী মানুষ তাদের সেই ষড়যন্ত্র ও কুপরিকল্পনাকে পুরোপুরি ব্যর্থ করে দিয়েছে।”

এক দলের লুটপাটের পর অন্য দলের লুটপাটের সংস্কৃতি মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি জানান। নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, “২০২৪ সালে আমাদের দেশের মেধাবী তরুণরা জীবন দিয়েছেন একটি আমূল পরিবর্তনের আশায়। যদি সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসে, যদি মাদক ব্যবসা, লুটপাট আর দুর্নীতি অব্যাহত থাকে, তবে সেই মহান আত্মত্যাগের কোনো মূল্য থাকবে না। একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে কেবল অন্য দলের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি।”

বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সব সময় ন্যায়বিচারের কথা বলেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ৫ই আগস্টের পর সারাদেশে এক ধরণের ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু হয়েছে। অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই আওয়ামী লীগের উপযুক্ত বিচার হোক, কিন্তু তার আড়ালে কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না। চাঁদাবাজি এবং লুটপাটের সংস্কৃতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”