জুলাই গণআন্দোলনে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে সমসাময়িক রাজনীতি ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে মুন্না বলেন, যুবদল একটি বিশাল সংগঠন এবং এর প্রতিটি সদস্যের আচরণ সরাসরি সংগঠনের ভাবমূর্তির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সাথে তুলনা করে বলেন, অতীতে কেউ অপরাধ করলে যুবলীগ তা অস্বীকার করত, কিন্তু যুবদলের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুবদলে অপরাধ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই এবং অতীতেও এমনটি ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দলের কোনো নেতা বা কর্মী যদি বিপথগামী হন, তবে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং বহিষ্কার করা হবে। এমনকি সেই অপরাধের সাথে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বহিষ্কৃত কোনো ব্যক্তি যদি পরবর্তীতে কোনো অপকর্ম করেন, তবে তার দায়ভার কোনোভাবেই যুবদলের হবে না।
সংগঠনের সুনাম ও আদর্শ রক্ষায় যুবদল যে কঠোর সাংগঠনিক নীতি গ্রহণ করেছে, তার উদাহরণ হিসেবে আব্দুল মোনায়েম মুন্না জানান, আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে দেশব্যাপী প্রায় ৩০০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু বহিষ্কারই নয়, সংগঠনের মর্যাদা রক্ষায় স্বপ্রণোদিত হয়ে অনেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আলোচিত ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
সাংগঠনিক অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকা। ১০টি সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতভিন্নতা থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এটি সংগঠনের জন্য ইতিবাচক।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মুন্না জানান, যুবসমাজকে রাজনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে যুবদল বদ্ধপরিকর। রক্তদান কর্মসূচি, আর্তমানবতার জন্য ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ অভিযান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় যুবদল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে সংগঠনের বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে প্রকাশের জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ১০টি বিভাগে মোট ৩১টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই টিমগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য গত ৫ ও ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, যুগ্ম সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।











