বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে বইছে উৎসবের আমেজ। তবে এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের এক রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য, যা কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। শুক্রবার বিএফডিসি প্রাঙ্গণে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে নিয়ে বেশ মজার কিছু কথা বলেন।
হাস্যোজ্জ্বল মুখে জয় বলেন, ‘জায়েদ খান মানেই এক বিশাল বিনোদনের নাম। তার সবকিছুই আমি মিস করি। বিশেষ করে নির্বাচনের এই সময়ে তাকে খুব মিস করছি, এমনকি তার সেই বিখ্যাত ডিগবাজিও মিস করি। সত্যি বলতে, জায়েদ খানের সবকিছুই আমরা সবাই মিস করি।’ জয়ের এই সাবলীল ও রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যের পর উপস্থিত শিল্পী এবং সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।
উল্লেখ্য যে, বিগত বেশ কয়েকটি মেয়াদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রভাবশালী মুখ ছিলেন জায়েদ খান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার নানা কর্মকাণ্ড, বিতর্কিত বক্তব্য এবং প্রচারণার ধরন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবারই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এবার তিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটকেন্দ্রে তার অভাব স্পষ্ট, আর সেই কারণেই ভোটার ও কর্মীদের মাঝে বারবার তার প্রসঙ্গটি সামনে চলে এসেছে।
এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকেই এফডিসিতে শুরু হয়েছে শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা হলেও ভোটগ্রহণ শুরু হয় কিছুটা দেরিতে, অর্থাৎ সাড়ে ৯টার দিকে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটাভুটি। এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটার তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করছেন।
নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথম প্যানেলে সভাপতি পদে প্রার্থী মকবুল হোসেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জয় চৌধুরী। এই দুই প্যানেল ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে ১১টি কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদের জন্য দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন লড়াই করছেন।
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার তদারকি ও সুষ্ঠু পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই রাতেই শুরু হবে ভোট গণনা এবং দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।











