নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ট্রেজারার পদে যোগদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে যোগদানপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নবনিযুক্ত ট্রেজারারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ট্রেজারার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকবৃন্দের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
যোগদান শেষে নবনিযুক্ত ট্রেজারার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য ‘চির উন্নত মম শির’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্থাপিত উদ্বোধনী ফলকের বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন), আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগ ও দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার মোড়ভাঙ্গা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে ইংরেজিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৮৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস) থেকে ‘Culture Sensitive Materials Design for English Language Teaching in Bangladesh’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৩ সালের ২৭ নভেম্বর সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন তিনি। ২০০৪ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে এবং ২০০৭ সালের ২৪ জুন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সহযোগী অধ্যাপক, ২০১২ সালে অধ্যাপক এবং ২০২১ সালের ১ জুলাই অধ্যাপক গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি পান।
দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময়ের শিক্ষকতা জীবনে অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর উপাচার্য ও ট্রেজারার পদ শূন্য থাকাকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, অর্থ কমিটির সদস্য, বিভাগীয় প্রধান, পরিবহন প্রশাসক, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুইবার এবং সহকারী প্রক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য এবং কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
গবেষণা ও একাডেমিক অবদান
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদার ২০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে তাঁর তত্ত্বাবধানে দুইজন পিএইচডি ও দুইজন এমফিল গবেষক গবেষণা করছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ২০টিরও বেশি এমএ থিসিস সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন জার্নালে সম্পাদক, প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন গণমাধ্যম, ম্যাগাজিন ও পুস্তকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও একাডেমিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন।
নতুন ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদার দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।





















