বিএনপিকে লক্ষ্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় দলটির কর্মী প্রত্যাশী তারবিয়াত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গত নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো রন্ধ্রে রন্ধ্রে व्याप्त দুর্নীতি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মনে হচ্ছে আমরা পাতি শৃগালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়েছি।”

বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ওয়াদা করেছিল যে ক্ষমতায় গেলে তারা শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু তারা সেই ওয়াদা রক্ষা করছে না। ইতিমধ্যে সংসদে তারা শরিয়াহবিরোধী আইন অনুমোদন করেছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তারা যদি শরিয়াহবিরোধী আইন থেকে ফিরে না আসে, তবে তারা দেশব্যাপী প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হবে।

জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের লোগো থেকে ‘আকিমুদদ্বীন’ কথাটি উঠিয়ে ফেলা হয়েছে, ফলে সেখানে ‘ইসলাম’ শব্দটি আর থাকছে না। তাই জামায়াতকে এখন আর ইসলামী দল বলা যায় না। গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালানোর কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এমনকি জামায়াতের আমিরও বলেছিলেন যে, তারা শরিয়াহ অনুযায়ী নয় বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ চালাবেন। সব মিলিয়ে জামায়াত আর প্রকৃত ইসলামী দল নয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জামায়াত বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করেছে। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে তাদের আমির বলেছেন যে, বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্ট নয়। তাহলে এত তেল-গ্যাস পুড়িয়ে কেন লংমার্চ করা হলো? কেন এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণ করা হচ্ছে?

কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ্ আখন্দের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি শেখ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা শাখার সম্পাদক জি এম তৌহিদ আনোয়ারসহ দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।