দেশ ও বিদেশের সরকারি সফরে ভ্রমণ ব্যয় পরিশোধ এবং অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিসেবা শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যেখানে ভ্রমণ শেষে বিল দাখিল এবং অগ্রিম অর্থ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক শর্তারোপ করা হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি সফরে গিয়ে প্রকৃত ব্যয় পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে বিল দাখিলের সময় অবশ্যই প্রয়োজনীয় সকল প্রমাণক এবং সহায়ক নথি সংযুক্ত করতে হবে। বৈদেশিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান কর্তৃক অনুমোদিত ভ্রমণ সারসংক্ষেপের কপি এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক জারি করা অফিস আদেশের কপি সংযুক্ত করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভ্রমণ ব্যয়ের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে এখন থেকে আরও বিস্তারিত নথি জমা দিতে হবে। যানবাহন ভাড়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত ভাড়ার টিকিট, বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটের পাশাপাশি বোর্ডিং পাস, অনুমোদিত ভ্রমণ বিবরণী এবং বিস্তারিত ভ্রমণসূচি দাখিল করতে হবে। এছাড়া আবাসিক হোটেলে অবস্থান করলে সেখানে পরিশোধিত প্রকৃত বিলের কপি বা যথাযথ প্রমাণক জমা দিতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সংক্রান্ত বিবরণী এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাউচার বা প্রমাণক দাখিলের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারপ্রধান কর্তৃক অনুমোদিত সারসংক্ষেপে নির্ধারিত ভ্রমণকালের চেয়ে অতিরিক্ত সময় কেউ অবস্থান করলে, তার জন্য পুনরায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত অতিরিক্ত সময়ের কোনো ব্যয় পরিশোধ করা হবে না।

অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সর্বশেষ জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে, অগ্রিম অর্থ নিয়ে ভ্রমণ করলে ফিরে আসার এক মাসের মধ্যে অবশ্যই সেই অগ্রিমের সমন্বয় বিল দাখিল করতে হবে। যদি আগের ভ্রমণের অগ্রিম বিল যথাযথভাবে সমন্বয় করা না হয়, তবে পরবর্তী কোনো ভ্রমণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এছাড়া নথি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সময় হাতে রেখে অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের বিল দাখিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই কঠোর নির্দেশনার ফলে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়ের হিসাব আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিন সেট নথি দাখিলের শর্তসহ এই নতুন নিয়মাবলি সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এবং আর্থিক অপচয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।