ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই ঘটনার মাধ্যমে অপরাধের এক চরম নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদের এক নোটিশের আলোচনার মধ্যবর্তী সময়ে তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শুরু হয় ওই দিনের অধিবেশন। অধিবেশনের কার্যক্রম চলাকালীন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকার ইতালি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না এবং এ বিষয়ে সরকারের সামগ্রিক উদ্যোগ কী।

সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের সময় জহরত আদিব চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, যদিও বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতাভুক্ত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী। তাই সংসদের বিশেষ ক্ষমতাবলে বিষয়টি উত্থাপন করার সুযোগ চান তিনি।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সংসদ সদস্য জানান, চলচ্চিত্রসংক্রান্ত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালির ভেনিসে গিয়েছিলেন। সেখানে পরিবারের সদস্য এবং ছোট শিশুকে নিয়ে একটি পার্কে হাঁটার সময় তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ এবং মৌখিকভাবে চরমভাবে হেনস্তা করা হয়। এই মর্মে বাঁধন নিজেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

জহরত আদিব চৌধুরীর দাবি, এই হামলার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতি বাঁধনের সমর্থন এবং সেই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিই হামলাকারীদের প্ররোচিত করেছে। তিনি বলেন, একজন নারী এবং দেশের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া একজন শিল্পীর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করেছে, তাতে এটি স্পষ্ট যে তারা দেশের বাইরে গিয়েও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে এবং নারীদের ওপর হামলা চালাতে দ্বিধাবোধ করে না। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, ইতালির সরকার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, আলোচনার সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো মন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এবং দেশের সাধারণ জনগণ এই ঘটনায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

এমপি জহরত আদিব চৌধুরীর বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বর্তমানে সংসদে উপস্থিত নেই। তারা সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত হলে এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে। তিনি পুনরায় ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ। এই ঘটনার মাধ্যমে অপরাধের নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের একজন বা দুজন সংসদে উপস্থিত হলে তাদের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘এই সংসদ জানতে চায়, এই জাতি জানতে চায়—ঘটনাটি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ কী।’