দেশজুড়ে অতিবৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত জনজীবন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন বন্যায় তলিয়ে গেছে, আর রাজধানী ঢাকাতেও টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। জলমগ্ন রাজপথে স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন, সাধারণ মানুষের চলাফেরা হয়ে পড়েছে দুঃসাধ্য। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গভীর বিষণ্ণতা প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় তারকারাও। কেবল সহমর্মিতাই নয়, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী তার ফেসবুক পাতায় এক আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষের জন্য আমার আন্তরিক দোয়া রইল। এই কঠিন সময়ে যারা তাদের প্রিয়জন, ঘরবাড়ি কিংবা জীবিকার চরম ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন। পাশাপাশি যারা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আসুন, আমরা সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আশা করি খুব দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সবাই নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত করুন।’
চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে جاری বন্যায় হাজারো মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। চরম দুর্দশায় দিন কাটছে তাদের। এই জেলারই সন্তান অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুটা অভিমানী সুরে লিখেছেন, ‘আমার চট্টগ্রাম ভালো নাই! বাঁশখালি, সাতকানিয়া, চকরিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজার, বান্দরবন—কেউই ভালো নাই! অথচ এই পরিস্থিতি নিয়ে তেমন কোনো বড় নিউজ নেই, নেই কোনো জোরালো আওয়াজ! মানুষগুলো নীরবে কষ্ট পাচ্ছে, এমনকি কবর থেকে লাশ ভেসে যাচ্ছে! কুমিল্লা-নোয়াখালী-ফেনীর বন্যার সময় চট্টগ্রামের মানুষ যার যা ছিল সব নিয়ে উদ্ধার কাজে ছুটে গিয়েছিল। কিন্তু আজ এই বন্যাপীড়িত মানুষগুলোর জন্য তেমন কোনো সাড়াশব্দ নেই, নেই কোনো আর্তনাদ! আল্লাহ আপনি রহম করুন।’
অন্যদিকে, নাট্য অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনির মনেও বইছে বিষণ্ণতার সুর। বন্যার্তদের করুণ অবস্থা দেখে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের সাতটিরও বেশি জেলা এখন পানির নিচে। তলিয়ে গেছে হাজারো ঘরবাড়ি। মানুষ এখন ছাদের ওপর কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমরা যারা নিরাপদ ও সুস্থ আছি, তাদের দায়িত্ব এখন এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এক প্যাকেট শুকনো খাবার কিংবা এক বোতল পানিও হতে পারে অনেক বড় সাহায্য। নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থাকুন এবং অন্যকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করুন। আল্লাহ বন্যাদুর্গত সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।’
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের বন্যায় দেশের শোবিজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পীরা একতাবদ্ধ হয়ে ব্যাপক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন। তবে এবারের দুর্যোগে এখনো তেমন কোনো বড় মাপের সম্মিলিত উদ্যোগের খবর পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে শিল্প মহলে। দুর্যোগের এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষ এবং তারকাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ক্ষতিগ্রস্তদের মুখে হাসি ফোটাতে।











