আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ কিংবা অন্যান্য বিশেষ অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের সম্পর্কিত বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশটি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) মহাপরিচালক এবং ডিএমপি কমিশনারের উদ্দেশ্যে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নোটিশ প্রাপ্তির ১৪ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘এনকাউন্টার’ এবং অনুরূপ বিশেষ অভিযানে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী মোট কতজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কেবল সংখ্যা নয়, বরং নিহত প্রতিটি ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, পরিচয় এবং প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থানের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
অভিযানগুলোর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নোটিশে আরও বলা হয়েছে, কোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কে নিহত হয়েছেন এবং সেই অভিযানে নেতৃত্বদানকারী প্রধান কর্মকর্তা কে ছিলেন, তা প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের নাম, পদবি এবং তাদের কর্মস্থলের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করতে প্রতিটি ঘটনার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ ম্যাজিস্ট্রেট বা বিভাগীয় তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও চূড়ান্ত ফলাফল জানতে চেয়েছেন অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু।
তদন্তে কোনো হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে তার পরিপ্রেক্ষিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি তদন্ত বা বিচারিক অনুসন্ধানে যদি কোনো ঘটনাকে বেআইনি বা বিচার-বহির্ভূত হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে, তবে তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয়, প্রশাসনিক বা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তার বর্তমান অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত ফলাফল জানাতে বলা হয়েছে।
মানবিক দিক বিবেচনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চেয়ে নোটিশে প্রশ্ন করা হয়েছে, এসব ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন সহায়তা বা অন্য কোনো সাহায্য প্রদান করা হয়েছে কি না। একই সাথে, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সরকার কী ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বা কী ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে।
নোটিশের শেষাংশে পুনরায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে যদি এসব তথ্যের সঠিক সরবরাহ করা না হয় অথবা আইনানুগ ও সন্তোষজনক জবাব প্রদান করা না হয়, তবে ন্যায়বিচার এবং তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে।











