যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ওয়াশিংটন যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, তার সবকটি অর্জিত হয়নি। অন্যদিকে, যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকলেও ইরানকে দিতে হয়েছে চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক মূল্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। সেই ভয়াবহ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন। হামলার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ঢুকে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই যুদ্ধ মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংঘাতের কোনো অবসান হয়নি; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এখন ক্যাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এখন সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ছয় মাসের এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে আনুমানিক ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক দশ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করা হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পুনরায় স্বীকার করে যে, তেহরান খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। যদিও একাধিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে যে, ইরানের কাছে এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা সরাসরি অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান এই মজুত তাদের কাছে হস্তান্তর করুক এবং সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ করুক, কিন্তু তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। এক পর্যায়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই মজুত হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও তা সফল হয়নি।
গত ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করে, যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে এমন প্রতিশ্রুতি ইরান আগেও দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্ট ভাষা ও শব্দচয়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হলে সেই চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশেষজ্ঞ ক্লার্ক সামার্সের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কিছু লক্ষ্য অর্জন করলেও ইরান কত দ্রুত তাদের ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইরান-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলাম সালেহ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য অত্যন্ত সীমিত এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো টিকে আছে।
ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় কৌশলগত লক্ষ্য। যুদ্ধের প্রথম দিনেই আলী খামেনির মৃত্যু মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। তার দুই দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই হবে এই যুদ্ধের সবচেয়ে ইতিবাচক ফল। কিন্তু খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে কোনো আমূল পরিবর্তন আসেনি। তার পুত্র মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশের শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা সামরিক বা কৌশলগত জয় হতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আঞ্চলিক মিত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করাও ছিল ওয়াশিংটনের অন্যতম দাবি। হিজবুল্লাহ, হুথি ও হামাসের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইরানের মদত দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ছয় মাস যুদ্ধের পরও তেহরানের এই সমর্থন বন্ধ হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি জুনের সমঝোতা স্মারকেও এই বিষয়ে কোনো কার্যকর প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাও ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সামরিক লক্ষ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের প্রায় ৮২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে ইরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। জুলাই মাসে ইরানের একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা এই দাবির বিপরীতে বড় প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের বিষয়টিও দুই দেশের সমঝোতা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ চাপের জায়গা হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ চলাচলের জায়গায় এখন গড়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করছে। ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কিছু জাহাজে হামলা চালিয়েছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির আশপাশের ইরানি বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে এবং এই অবরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প বারবার হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ইরান তাতে সাড়া দেয়নি। বর্তমানে জলপথটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে এমন একটি নৌপথ নিয়ে তারা একমত হয়েছে, যার একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতে। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং এটি জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা, তবে বাস্তবে জাহাজ চলাচল এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করা জাহাজে ইরান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি অত্যন্ত গভীর। ইরানের মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে এবং নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। মার্কিন অবরোধ ও নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শুধু নৌ-অবরোধের কারণেই ইরানের তেল রাজস্ব অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার কমেছে বলে বিভিন্ন হিসাব উঠে এসেছে। যদিও ইরানের অর্থনীতি যুদ্ধের আগেও দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাকে আরও বিপর্যস্ত করেছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। জ্বালানির দাম বাড়ায় মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রায় চাপ বেড়েছে। জুলাইয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের এই নেতিবাচক প্রভাব নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো কিছু অঙ্গরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক মিত্রদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশই চাপের মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এবং জর্ডানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোয় ইরানের হামলা এসব দেশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, ইরাক, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন ইরানের এই হামলাগুলোকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। তবে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এখনো বহুলাংশে অটুট রয়েছে। চীন ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনি। রাশিয়ার সঙ্গেও ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও তার মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পূর্ণ সমর্থন পায়নি। ট্রাম্প সরাসরি সহযোগিতা চাইলেও ন্যাটোর অনেক দেশ এই যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালি সংঘাতের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং ফ্রান্স মার্কিন নৌ-অবরোধে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক। এমনকি উপসাগরীয় মিত্ররাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে, কারণ ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে তারা।
সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরান বড় ক্ষতির মুখে পড়লেও তাদের লড়াই করার ক্ষমতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। একাধিক সামরিক ঘাঁটি আক্রান্ত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৮২ শতাংশ কমেছে। তবু ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এখনো তাদের হাতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, যুদ্ধের আগে যে অবস্থান ছিল তার তুলনায় এখন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আগ্রহ আরও বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া ইরান সস্তা ও ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য শাহেদ ড্রোন তৈরি ও ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। এপ্রিল পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজার ২২১ জন ইরানি সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫০-এর বেশি আহত হয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোট সেনা সংখ্যার তুলনায় এই ক্ষয়ক্ষতি কম মনে হলেও অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুতের ওপর যুদ্ধের প্রভাব বড়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের কিছু শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের মজুত, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবি অস্বীকার করেছে, তবে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র নির্মাতা রেথিয়নের সঙ্গে ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বছরে ৬০টি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজারের বেশি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ছয় মাসের যুদ্ধের পর কোনো পক্ষকেই সরাসরি বিজয়ী বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ আলাম সালেহের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে রাজনৈতিক বা কৌশলগত অর্জনে পুরোপুরি রূপ দিতে পারেনি। তবে ইরান টিকে থাকলেও সেটিকে জয় বলা যায় না। এই যুদ্ধের প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও দুর্বলতাগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ বিমানবাহী রণতরী পাঠানোয় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কোনো বিমানবাহী রণতরী নেই, ফলে তাইওয়ানসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ছয় মাসের যুদ্ধ দেখাচ্ছে যে, সামরিক শক্তিতে বড় ব্যবধান থাকলেও যুদ্ধের রাজনৈতিক ফল নিশ্চিত করা সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে পারলেও ঘোষিত সব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, আর ইরান টিকে থাকলেও তার অর্থনীতি, সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক অবস্থানের ওপর যুদ্ধের বড় মূল্য দিতে হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা




















