রামগতি-কমলনগর প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তানিম হোসেন রিংকু (২২) নামে এক টেলিকম ব্যবসায়ীর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাড়িতে নেটের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার চাচা, চাচী ও চাচাতো ভাই পরিকল্পিত এই হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের মুজাফফর বেপারী বাড়ি সংলগ্ন স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত তানিম হোসেন রিংকু ওই এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। তিনি করইতলা বাজারের একজন টেলিকম ব্যবসায়ী।
অভিযুক্তরা হলেন একই বাড়ির মো. এরশাদ (৪৫), তার স্ত্রী আরজু বেগম (৪০) এবং ছেলে মো. জীবন (২০)। তারা সম্পর্কে আহত রিংকুর চাচা, চাচী ও চাচাতো ভাই।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪ টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবার কমলনগর থানায় এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানিমদের সঙ্গে তার চাচা আবদুল খালেকের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চর লরেন্স ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শিব্বির আহমদ, বিএনপি নেতা কাশেম মাস্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিরোধের সমাধান হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত এরশাদ, তার স্ত্রী ও ছেলে তানিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তানিম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সালিশে উপস্থিত তানিমের চাচা আবদুল খালেক বলেন, আমাদের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে সালিশে সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু পরে আমার চাচাতো ভাই এরশাদ ও তার ছেলে হঠাৎ তানিমের ওপর হামলা চালায়। সালিশটি ছিলো আামাদের সাথে। তাদের সাথে নয়।
আহত তানিম হোসেন রিংকু অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার চাচাতো ভাই এরশাদ একজন মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। পরিকল্পিতভাবে ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এরশাদ ও তার ছেলে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি অচেতন হয়ে পড়ার পরও আরজু বেগম আমার বুকে উঠে লাথি মারেন। আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তারা এই হামলা করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তের ভাই মো. বাশার বলেন, বাড়ির সীমানায় তানিমদের নেটের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











