ভাগ্নিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আদালতের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন ইসতি মেডিক্যাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে হাজির হয়ে ফয়সালের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সম্পাদক আবুল কালাম খান এবং সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খানসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। শুনানির সময় তারা দাবি করেন, পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ফয়সালের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, প্রকৃত ঘটনার এক মাস পর এই অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমতাবস্থায় যেকোনো শর্তে আসামির জামিন মঞ্জুর করার আবেদন জানান তারা।

অন্যদিকে, বাদীপক্ষের হয়ে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম এবং সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুলসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। তারা আসামির জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং ঘটনার গুরুত্ব উল্লেখ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ফয়সালের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভিক্টিমের বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি মোহাম্মদ ফয়সাল বাদীর শ্যালক এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর আপন মামা। ২০২৫ সালের ২১ জুন থেকে ফয়সাল বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাগ্নিকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেন। আপন মামা হওয়ায় কিশোরীটি তার কথা বিশ্বাস করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। এই সময়ে ফয়সাল নিজে ধূমপান করার পাশাপাশি কিশোরীটিকেও ধূমপানে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন, তবে সে তাতে রাজি হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার তিন দিন পর ২৪ জুন দুপুরে ফয়সাল ওই কিশোরীকে গুলশান থানাধীন কনকর্ড সিলভি হাইটসের চতুর্থ তলায় অবস্থিত ইসতি মেডিক্যাল বাংলাদেশের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেখানে যাওয়ার পর ফয়সাল তাকে অফিসের ব্যালকনিতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু কিশোরীটি তা প্রত্যাখ্যান করে।

সেই রাতের ঘটনাটি ছিল আরও ভয়াবহ। কিশোরীকে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সময় আমেরিকান ক্লাব রোডের কাছাকাছি এসে ফয়সাল তাকে গাড়ি চালানো শেখানোর কথা বলেন। এরপর তিনি কিশোরীকে ড্রাইভিং সিটে বসানোর চেষ্টা করেন এবং সেই সুযোগে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। ভিক্টিম কোনোমতে কৌশলে নিজেকে রক্ষা করেন এবং অসুস্থতার কথা বলে দ্রুত বাসায় যাওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর ফয়সাল তাকে বাসায় পৌঁছে দেন।

পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী শুরুতে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। তবে গত ১৭ এপ্রিল তার বড় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ ফয়সাল উপস্থিত হলে তাকে দেখে কিশোরীটি চিৎকার করে ওঠে এবং তাকে গালাগাল করতে থাকে। এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে। এরপরই ক্ষুব্ধ বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান তার শ্যালকের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।