ইসলামী আন্দোলনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে উপদেষ্টা পরিষদ ও মজলিসে শুরার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সোমবার দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম গঠনতন্ত্রের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম ও আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহকে দলের উপদেষ্টা পরিষদে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সিকে মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। নব্বই দশকের শুরুর দিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন গঠনকালে তিনি এর গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিকতায় তিনি উক্ত ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহকারী মহাসচিব এবং যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করেছেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে দলের ভিত্তি মজবুত করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি সপরিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

নতুন নিযুক্ত সদস্য আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহ দেশের একজন প্রথিতযশা আলেমে দ্বীন ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি একাধিকবার নির্বাচিত একজন জনপ্রিয় ও নন্দিত জনপ্রতিনিধি এবং হাফেজ্জি হুজুরের জামাতা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে মনোনীত আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় নেতা। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা আমির মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এবং দলের শুরুর দিক থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৭ জুন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। ওই বিশেষ শুরা অধিবেশনে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমকে আমির পদে বহাল রাখা হয় এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানকে মহাসচিব নিযুক্ত করে মোট ৪৮ সদস্যের এক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে ১১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম এবং ২৪ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল, যার পরিধি এখন আরও বিস্তৃত করা হলো।