গাইবান্ধায় র‍্যাবের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ফেনসিডিলের সমজাতীয় মাদক ‘এসকাফ’ এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে র‍্যাব-১৩-এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকায়। ওই এলাকায় সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে তল্লাশি চালিয়ে একটি মোটরসাইকেল থেকে ২১৩ বোতল এসকাফ জব্দ করা হয়। এই অভিযানে শিপলু চন্দ্র মোহন্ত (৩৩) এবং মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর পরপরই একই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট এলাকায় দ্বিতীয় এক বিশেষ অভিযান চালায় র‍্যাব। সেখানে তল্লাশির সময় আরও ১৪৮ বোতল এসকাফ জব্দ করা হয় এবং মাহাবুব আলম ওরফে ভুট্টো (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোট দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক এবং দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতেন এবং তা বিক্রি করে আসছিলেন। র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করার পর তাদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে এই মাদক ব্যবসার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আমিনুল ইসলাম আতাউর (৩৮), পিতা—জহুরুল ইসলাম, সাং—ফকিরপাড়া, গাইবান্ধা—র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা অথবা সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁর দুই ভাই ইমাম হাসান আলাল ও ইমাম হোসেন দুলাল বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেই মাদক ব্যবসার জাল বিস্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের জোরালো দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যদি কেউ রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জড়িত থাকে, তবে তা অত্যন্ত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা বা সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা, যাতে এলাকার মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়।