রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় চত্বরে একটি বড় গাছের বিপজ্জনক ডাল ভেঙে পড়ে দুটি গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অফিস চত্বরের অভ্যন্তরীণ পার্কিং এলাকায় থাকা অবস্থায় একটি সরকারি ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি দুমড়ে-মুছড়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টির সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় যে, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনার সময় যদি গাড়িগুলোতে কোনো মানুষ অবস্থান করত বা আশেপাশে কেউ থাকতেন, তবে এটি বড় ধরনের বিপর্যয় কিংবা ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় রূপ নিতে পারত।

জানা গেছে, রবিবার আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একটি অফিসিয়াল গাড়ি এবং অন্য একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়ি অফিস চত্বরের অভ্যন্তরীণ পার্কিং এলাকায় রাখা ছিল। হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি শুরু হলে চত্বরের একটি বড় গাছের দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত ডালটি হঠাৎ ভেঙে সরাসরি গাড়ি দুটির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে একটি গাড়ির উইন্ডশিল্ড বা সামনের কাঁচ পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং অপর গাড়িটির পেছনের অংশ, ছাদ ও বডি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুছড়ে যায়। গাড়ি দুটির বডিতে বিভিন্ন স্থানে গভীর ডেন্ট ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, যা দেখে স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা হতবাক হয়ে যান।

এই দুর্ঘটনার পেছনে বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অফিস চত্বরের ওই গাছের বিপজ্জনক ডাল অপসারণের জন্য অফিসের ক্যাশিয়ার আসাদ নামের একজনকে পূর্ব থেকেই বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা চিহ্নিত করে সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েক দিন আগেই সুস্পষ্ট ও জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। শোনা যাচ্ছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কর্মচারী কয়েক দিন আগে লোক ডেকে এনে ডালগুলো দেখিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে কী কারণে সেগুলো আর কাটা হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য বা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করা এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার বিষয়টি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনসমাগমপূর্ণ এবং নিয়মিত যানবাহন চলাচলের এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ গাছ বা ডালপালা সময়মতো অপসারণ না করা যে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তা এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে যদি গাড়ির ভেতরে বা আশেপাশে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অবস্থান করতেন, তবে পরিস্থিতি শুধু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না; বরং এটি একটি ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় রূপ নিতে পারত।

ঘটনার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অফিস চত্বরের গাছপালা নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করার এবং দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ডাল অপসারণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বাস্তবায়নে অবহেলা ছিল কি না, তা জানতে মিরপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নূরুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন রিসিভ করা হয়নি।