মুরগি কাটার সময় প্রায়শই দেখা যায় যে, পেটের ভেতর আস্ত বা আধা-গঠিত ডিম রয়ে গেছে। আমাদের সমাজে এই ডিম খাওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ একে অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে রান্না করে খান, আবার অনেকে একে অস্বাস্থ্যকর মনে করে সরাসরি আবর্জনার পাত্রে ফেলে দেন। তবে এই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত কী? মুরগির পেটে পাওয়া এই ডিম খাওয়ার আগে ঠিক কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

ডিমটি কি সত্যিই খাওয়ার উপযোগী? মুরগি কাটার সময় যদি দেখা যায় ডিমটি খোলস বা পাতলা আবরণের ভেতরে সুরক্ষিত এবং সুন্দরভাবে রয়েছে, তবে তা খাওয়া সম্ভব। তবে ডিমটি পেট থেকে বের করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন এটি ভেঙে না যায় অথবা মুরগির পেটের ভেতরের কোনো ময়লা এর গায়ে না লাগে। যদি ডিমটি বের করার সময় ভেঙে যায় বা এর স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়, তবে তা খাওয়া একেবারেই উচিত হবে না।

বিশেষ করে মুরগি কাটার সময় যদি পিত্তথলি বা নাড়িভুঁড়ি ফেটে যায় এবং সেই বর্জ্য ডিমের গায়ে লেগে যায়, তবে তা থেকে মারাত্মক জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। যদি ডিমটি বর্জ্য দ্বারা ব্যাপকভাবে দূষিত হয়ে থাকে, তবে তার আকৃতি অক্ষুণ্ণ থাকলেও সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। এছাড়া ডিম থেকে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ পাওয়া গেলে তা কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না।

রান্নার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। অনেকে মনে করেন ডিমটি ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন, তবে রান্নার আগে এটি ধোয়ার প্রয়োজন নেই। খোলস বা পাতলা আবরণ যেটিই থাকুক না কেন, তাতে যদি দৃশ্যমান কোনো ময়লা থাকে, তবে একটি পরিষ্কার টিস্যু দিয়ে হালকাভাবে মুছে নিন। মনে রাখবেন, এই ডিম ফ্রিজে সংরক্ষণ না করে সাথে সাথেই রান্না করে ফেলা শ্রেয়। যে পদই তৈরি করুন না কেন, ডিমটি খুব ভালোভাবে সেদ্ধ হতে হবে। উচ্চ তাপমাত্রায় অল্প সময় রান্না করলে ভেতরের অংশ কাঁচা থেকে যেতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মাঝারি আঁচে পর্যাপ্ত সময় ধরে রান্না করুন, যাতে ভেতরটা পুরোপুরি জমাট বাঁধে।

ডিমটি সেদ্ধ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে একটি ডিম আলাদা প্লেট বা বাটিতে নিয়ে চামচ বা ছুরি দিয়ে মাঝখান থেকে কেটে দেখুন। যদি মাঝখানের অংশ নরম থাকে, তবে বুঝতে হবে তা পুরোপুরি সেদ্ধ হয়নি। সেক্ষেত্রে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন এবং পুনরায় একইভাবে পরীক্ষা করে দেখুন। রান্নার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে সামান্য পানি বা তেল যোগ করতে পারেন, যাতে ডিমটি পাত্রের তলায় পুড়ে না যায় বা লেগে না যায়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তা: ওপরের নিয়মগুলো মেনে সতর্কতার সাথে রান্না করা হলে মুরগির পেটের ডিম মানবস্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ এবং যেকোনো বয়সী মানুষ এটি খেতে পারেন। তবে শর্তাবলির কোনো ব্যত্যয় ঘটলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে 'সালমোনেলা' নামক জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে, যা ফুড পয়জনিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পুষ্টিগুণেও এই ডিম অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সঠিক নিয়মে খাওয়া হলে এখান থেকে প্রচুর পুষ্টি পাওয়া যায়। এতে রয়েছে উচ্চমানের আমিষ, অতি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন এবং ভিটামিন বি১২-সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।

তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। যাদের নির্দিষ্ট কোনো রোগের কারণে আমিষ বা আয়রন গ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি কোনো ডিম খাওয়া উচিত নয়। এই ডিমে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে। তাই যাদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। তবে যাদের এমন কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা নিষেধাজ্ঞা নেই, তারা এই বাড়তি পুষ্টির উৎসটি অনায়াসেই গ্রহণ করতে পারেন।