রাজধানীর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিদিনের প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২০২৮ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি বিশেষ প্রকল্প নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, চীনের প্রখ্যাত সিএমইসি (CMEC) গ্রুপ আমিনবাজারে বর্জ্যভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি সংকট—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই কেন্দ্রটি থেকে টানা ২৫ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। মঙ্গলবার নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম এই অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী তাদের এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সরাসরি সিটি করপোরেশনের কাছে জানাতে পারবেন। এর ফলে অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং নাগরিক সেবা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বর্জ্যের স্তূপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই এলাকার অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তার বিশেষ নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ওই এলাকা থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি মহাসড়কের দুই পাশে নিমগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং পথচারী ও যাত্রীদের জন্য পরিবেশটি স্বাস্থ্যকর হয়।