রঙিন পাপড় ও ফ্রাইমস শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। বিশেষ করে বিকেলের হালকা নাশতা কিংবা মূল খাবারের স্বাদ বাড়াতে এই মচমচে খাবারগুলো অনেকেই পছন্দ করেন। তবে দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও, এসব খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতের তামিলনাড়ু খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগ।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মিত কৃত্রিম রংযুক্ত এসব খাবার খেলে হজমের গুরুতর সমস্যা হতে পারে। একই সঙ্গে এটি কিডনির কার্যক্ষমতার ক্ষতি করার আশঙ্কা তৈরি করে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘ মেয়াদে এই ধরনের রাসায়নিক রঙের সেবনে শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সতর্কবার্তার মাধ্যমে তামিলনাড়ু খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগ সাধারণ মানুষকে কৃত্রিম রং মিশ্রিত পাপড় ও ফ্রাইমস এড়িয়ে চলার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশে পাপড়, অ্যাপলাম বা পাপড়াম অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি খাবার। এটি যেমন বিকেলের নাস্তা হিসেবে জনপ্রিয়, তেমনি বিভিন্ন উৎসব বা পারিবারিক ভোজের খাবারের সঙ্গেও পরিবেশন করা হয়। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের রঙিন পাপড় ও ফ্রাইমস পাওয়া যাচ্ছে, যা এর উজ্জ্বল রঙের কারণে বিশেষ করে শিশুদের ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। কিন্তু এই বাহ্যিক সৌন্দর্যই হয়ে উঠতে পারে শরীরের জন্য বড় হুমকি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুর দিকে মাদুরাইয়ের একটি গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ২২ টন কৃত্রিম রংযুক্ত পাপড় ও ফ্রাইমস জব্দ করেছে প্রশাসন। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্য উদ্ধারের পর থেকেই এসব খাবারে ব্যবহৃত রঙের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, "পাপড় ও এই জাতীয় খাবারে যেকোনো ধরনের কৃত্রিম রং ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। কারণ এসব রং মূলত রাসায়নিক উপাদানে তৈরি, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।"
সাধারণত ডাল বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পাপড় পরে ভেজে খাওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে বাজারজাত করা অনেক পণ্যে আকর্ষণ বাড়াতে এমন সব রং ব্যবহার করা হচ্ছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, পাপড় বা ফ্রাইমস কেনার সময় উপাদানগুলো ভালোভাবে যাচাই করতে এবং কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে।











