প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বারোপ করে বলেছেন যে, সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন করা সম্ভব নয়। শনিবার দুপুর ১২টায় ড্যাব-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন কোনোভাবেই অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সকলকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
চিকিৎসা খাতের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় হয়ে কাজ করছে। তবে এই সংকট মোকাবিলায় এবং জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ অর্থাৎ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে অধিক গুরুত্ব দেওয়া। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে রোগের কারণ, প্রতিকার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতনতা তৈরি করা গেলে অনেক জটিল রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এই প্রসঙ্গে মার্কিন উদ্ভাবক ও প্রখ্যাত ব্যবসায়ী টমাস এডিসনের একটি দর্শনের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এডিসনের ধারণায় ভবিষ্যতের চিকিৎসকের কাজ কেবল ওষুধ দেওয়া হবে না; বরং রোগীর সামগ্রিক শরীরের যত্ন নেওয়া, খাদ্যাভ্যাসের উন্নয়ন এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে রোগীকে সচেতন করে তোলাই হবে চিকিৎসাব্যবস্থার প্রধান অংশ। তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির সাথে এডিসনের এই আধুনিক চিন্তাধারার একটি গভীর মিল রয়েছে।
রোগ প্রতিরোধের এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার আরও ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এক বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন। তবে এই বিশাল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে যথাযথ ও কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন। এসময় জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি চারা রোপণ করে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন। అనంతరం জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরবর্তী কর্মসূচিগুলো শুরু হয়। সমাবেশ শুরুর আগে শান্তির প্রতীক হিসেবে দুটি সাদা পায়রা উড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি।











