ফারুক হোসেন ডন,
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া থেকে খেসবা গ্রাম পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২২শ মিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে নির্ধারিত মানের ইটের খোয়া, পাথর ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭২১ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বর্তমানে সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথরের আকার নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, সড়কের কাজে ব্যবহৃত কিছু পাথর অস্বাভাবিক বড় এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী ভেঙে ব্যবহার করা হয়নি। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রেললাইনের কাজে ব্যবহৃত পাথরও এত বড় দেখা যায় না। এসব পাথর কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ইটের খোয়া, পাথর ও বালুর গুণগত মান যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ভাঙন, গর্ত ও ক্ষয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে দুর্ভোগে পড়বেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগের তীর ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের দিকে। তাদের দাবি, অতীতেও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সাদিকুল ইসলাম বলেন, যেসব বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বড় পাথর ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে এ ধরনের বড় পাথর আমদানি হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তাহলে এত বড় পাথর কীভাবে এসেছে, তা আমার জানা নেই। বড় পাথরগুলো ভেঙে ছোট করে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যবহৃত বড় পাথর তুলে ছোট করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর মান নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে ইট, পাথর ও বালুর গুণগত মান পরীক্ষা করুক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।











