দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কেবল চিকিৎসা-নির্ভর না রেখে প্রতিরোধ বা প্রিভেনশন কেন্দ্রিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে দেশের হেলথ ওয়ার্কফোর্সের সামগ্রিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নার্স, ডায়েটিশিয়ান এবং অন্যান্য প্যারামেডিক্যাল স্বাস্থ্যকর্মীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

সম্প্রতি সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘উন্নত রোগী সেবা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল পথ্যবিদ্যার অগ্রগতি’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পুষ্টিবিদদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং চিকিৎস প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে একদম তৃণমূল পর্যায়ে বা রুট লেভেলে পথ্যবিদদের নিয়োগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পেশাগত নিয়ন্ত্রণ, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পাঠদান পদ্ধতি সংস্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা কারিকুলামের পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা প্রয়োজন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষায়িত ট্রেনিংয়ের সুযোগ আরও বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতে একটি কার্যকর রেগুলেটরি সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল পেশাজীবী সংগঠনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং প্রমাণভিত্তিক পুষ্টি সেবা নিশ্চিত করতে পুষ্টি ও পথ্যবিদদের কার্যকর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) পরিচালক ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ, পথ্যবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা একমত হন যে, নিরাপদ ও মানসম্মত পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে পুষ্টিবিদদের পেশাগত ভূমিকা সুসংহত করার পাশাপাশি পেশাগত মানোন্নয়ন, গবেষণা এবং নৈতিক চর্চার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

অনুষ্ঠানের কি-নোট স্পিকার হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন নাহার মহুয়া। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পুষ্টি ও পথ্যবিদদের বর্তমান অবদান, বিদ্যমান বাস্তব চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপুষ্টি ও স্থূলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এসব রোগের প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক এবং প্রমাণভিত্তিক পুষ্টি সেবার গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।