প্রকাশের মাত্র একদিনের মধ্যেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র চতুর্থ সিজনের দ্বিতীয় গান ‘মেঘ’। বর্ষার আমেজকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গানটি নিয়ে দর্শক ও শ্রোতাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে মুক্তি পাওয়ার পরপরই ইউটিউব এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গানটির সংগীতায়োজন, বিশেষ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর কবিতা ‘সোনার তরী’র উপস্থাপন শৈলী নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তীব্র বিতর্ক।
প্রায় এক মাসের ব্যবধানে মুক্তি পাওয়া ‘মেঘ’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মোহাম্মদ শোয়েব, মাশা ইসলাম এবং মৌসুমি। গানটির সামগ্রিক সংগীতায়োজন করেছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব, যিনি কোক স্টুডিও বাংলার প্রধান সংগীত প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গানটিতে শাস্ত্রীয় সংগীতের সাথে আধুনিক সাউন্ডের এক সংমিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এতে স্মরণ দত্তের লেখা একটি মৌলিক গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘সোনার তরী’কে নতুন সুরে এবং হিপহপধর্মী উপস্থাপনায় পরিবেশন করা হয়েছে। আর এই সাহসী নিরীক্ষাটিই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইউটিউবের মন্তব্য বক্সে অনেক শ্রোতা তাঁদের গভীর হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘ঠিক জমল না। “রুম ঝুম” পর্যন্ত সবগুলো গানই ভালো ছিল, কিন্তু এই গানটি ফিকে হয়ে গেছে।’ অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সব কিছুই পারফেক্ট ছিল, শুধু “সোনার তরী” কবিতাটা না থাকলেই হয়তো ভালো হতো।’ কেউ কেউ আরও কঠোর ভাষায় লিখেছেন, ‘ঘোড়ার ডিম বানাইছেন ভাই, সেই হইছে’ অথবা ‘দ্য বেস্ট অখাদ্য এভার’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে রসিকতা করে বলছেন, এই গানটির কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে ‘সোনার তরী’ কবিতাটি এবার আরও ভালোভাবে মনে থাকবে।
গানটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রখ্যাত লেখক আনিসুল হকও। নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি লিখেছেন, “যেকোনো নিরীক্ষা করা শিল্পীর অধিকার এবং সেই নিরীক্ষার সমালোচনা করা শ্রোতার অধিকার। তবে ‘সোনার তরী’ কবিতার এর চেয়ে খারাপ রূপ আর কিছু হতে পারত না। আমাদের ছোট নদী গানটি যেভাবে গাওয়া যায়, সোনার তরী সেভাবে গাওয়া সম্ভব নয়। কবিতাটির মূল সুর ও মর্ম তারা বোঝেনি। এক্সপেরিমেন্টের জন্য অভিনন্দন, তবে করুণভাবে ফেইল করার জন্য শোক। ১০-এ মাইনাস ১০।”
এদিকে গানটিকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরণের মিমও ছড়িয়ে পড়েছে, যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বিতর্কের মাত্রা। এই সামগ্রিক সমালোচনার বিষয়ে জানতে সংগীত প্রযোজক শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোনে কোনো সাড়া দেননি।











