টিকার সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম গাফিলতির অভিযোগে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না কেন—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এই রুলের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ মোট ছয় বিবাদীকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতের কাছে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জুয়েল আজাদ এবং তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আবিদা আসমা প্রমি। রিট আবেদনে টিকার সংকট ও সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে ৫ লাখ টাকা এবং চূড়ান্তভাবে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৬ জুলাই হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দাখিল করা হয়। এতে বিবাদী করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকার জেলা প্রশাসককে (ডিসি)।
রিটের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ মে রাজধানীর শ্যামলী এলাকার বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় সাত মাস বয়সী শিশু সাফওয়ান ইসলাম জাহিনের। শিশুটি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ক্লার্ক মো. শাকিলের সন্তান। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতের অবহেলার অভিযোগ তুলে তার বাবা শাকিলের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ।
রিটে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও মজুত সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আদালতে দাখিল করা হোক। আইনজীবী জুয়েল আজাদের মতে, যথাযথ চিকিৎসা ও সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা গেলে শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাত না। টিকা সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় কোথায় অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়কালে টিকার মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, ওই সময়ের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত শিশুটির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।




















