রাজনীতির উত্তাল সময়ে যারা আদর্শের সাথে আপস করেননি, তাদের জীবন অনেক সময় কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল তেমনই একজন মানুষ। রাজনীতির ময়দানে তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু কখনোই কাউকে কটূ কথা বলেননি বা অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেননি। দলের দুঃসময়ে যারা অবিচল থাকেন, আজ তেমনই এক মানুষ তার পরিবারের চরম সংকটে সবার কাছে মানবিক সহযোগিতা এবং মানসিক সমর্থন প্রার্থনা করছেন।

এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের দাপট যখন তুঙ্গে, তখন সেই প্রবল শক্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে সাহসের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হয়েছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল। রাজনীতির সেই কঠিন সময়ে তিনি শুধু দলের পাশে থাকেননি, বরং তার এই অবস্থানের কারণে তাকে অনেক বড় মাশুল দিতে হয়েছে। ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে বারবার। তবে এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তার সৌজন্যবোধ হারাননি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করা কিংবা কটু শব্দ ব্যবহার করাকে তিনি কখনো রাজনীতির অংশ মনে করেননি।

পরবর্তীতে রাজনীতির সক্রিয় ময়দান ছেড়ে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। জীবনের মোড়ে মোড়ে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রিয় দল বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতির সুসময়ে তিনি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা বিশেষ সুযোগের আশায় দলের দ্বারে দ্বারে যাননি। কিন্তু আজ তার ব্যক্তিগত জীবন এক কঠিন সংকটের মুখে। তার বড় ভাই মো. মাসুদুর রহমান, যিনি স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, গত প্রায় এক মাস ধরে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনযুদ্ধ লড়ছেন।

বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। জীবন বাঁচাতে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাকে। সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করার প্রক্রিয়া চলছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং ব্যয়বহুল। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান এবং সুস্থতার একমাত্র পথ এখন কিডনি প্রতিস্থাপন। একদিকে অসুস্থ ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা আর আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে পুরো পরিবারটি এখন গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

এই চরম দুঃসময়ে নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল তার রাজনৈতিক জীবনের সেই স্মৃতিগুলো মনে করছেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু মানবিকতার জায়গায় সবার এক হওয়া উচিত। তাই এই কঠিন সময়ে তিনি বর্তমান সরকার এবং সরকারপ্রধানের কাছে তার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য অন্তত মানসিক সমর্থন এবং মানবিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

নূরে আলম সিদ্দিকী আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘দলের দুঃসময়ের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমি সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি, মানবিকতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই কঠিন সময়ে আমি আশা করি দল এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আমার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে। অসুস্থ ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে এবং এই লড়াইয়ে মানসিক শক্তি পেতে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

সবশেষে, তিনি দেশবাসী এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তার বড় ভাইয়ের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেছেন। একসমের সাহসী ছাত্রনেতা আজ তার ভাইয়ের সুস্থতার জন্য সবার করুণা ও সহমর্মিতা চাইছেন।