চেক প্রতারণার মামলায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে পাওনা ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ এই রায় ঘোষণা করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী মমিনুল ইসলাম রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমের পর সোমবার আদালতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত ফাতেমা খাতুন লতা কোনোদিন আদালতে হাজির হননি। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। পরপর ছয়টি শুনানির তারিখে হাজির না হওয়ায় এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান এবং পাওনা ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি ফাতেমা খাতুন লতা তাঁর নিকটাত্মীয় মো. নুরুজ্জামানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধার নেন। ওই ঋণের টাকা পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে তিনি একটি চেক প্রদান করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে চেকের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় সংক্ষুব্ধ মো. নুরুজ্জামান আদালতের শরণাপন্ন হন এবং মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ফাতেমা খাতুন লতার বিরুদ্ধে কেবল এই একটি মামলা নয়, বরং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়া এবং চেক প্রতারণার আরও দুটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১০ মার্চ নিলুফা ইয়াসমিনের দায়ের করা একটি মামলায় রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১০ দিন হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন।





















