দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারা বা রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটিকে সংবিধানবিরোধী ও বাতিলযোগ্য ঘোষণা করার দাবিতে দায়ের করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। শুনানি শেষে আদালত রিটটি খারিজ করার পর, আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান যে, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা খুব শীঘ্রই আপিল বিভাগে আবেদন জানাবেন।

এর আগে, দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারাটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিল করার দাবিতে হাইকোর্টে এই রিটটি দায়ের করা হয়েছিল। রিট আবেদনে জোরালোভাবে যুক্তি দেওয়া হয় যে, রাষ্ট্রদ্রোহিতার এই আইনটি নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সমালোচনা করার বা ভিন্নমত পোষণ করার স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতার এই আইনটি মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের একটি আইন, যা তৎকালীন স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে এই আইনের কোনো সামঞ্জস্য নেই। রিট আবেদনে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয় যে, দণ্ডবিধির এই ধারাটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭, ২৬, ২৭, ৩১, ৩২ এবং ৩৯-এ বর্ণিত নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলোর পরিপন্থী। এই সব যুক্তির ভিত্তিতেই ধারা ১২৪এ-কে সংবিধানবিরোধী ও অকার্যকর ঘোষণা করে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছিল।