সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নিন্দা প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশ মক্কা আল-মুকাররমা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য পবিত্র স্থানের পবিত্রতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে এসব পবিত্র স্থান রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সৌদি আরব সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও পবিত্রতা সব সময় সম্পূর্ণভাবে সম্মান এবং সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরণের হামলা কেবল একটি দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে না, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিমের আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতি আঘাত হানে।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও তীব্র হওয়ার মধ্যেই বাংলাদেশের এই প্রতিক্রিয়া এলো। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি ভূখণ্ডে একাধিকবার হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বরও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল বাংলাদেশ।
ইয়েমেনবিষয়ক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত মঙ্গলবার ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি হুতি ড্রোন মক্কার দক্ষিণাঞ্চলে আকাশে শনাক্ত করা হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি মক্কার নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার এই অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। তারা সৌদি আরবের এই দাবিকে ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বুধবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মক্কায় হামলার দাবি একটি ঘৃণ্য মিথ্যা, যা এর আগেও করা হয়েছে। এখন এমন দাবি আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারে না। আমাদের সামরিক অভিযানগুলোর লক্ষ্য শুধুমাত্র তেল স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটি, পবিত্র স্থান নয়।’

















