জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ। আগামী এক বছরের জন্য তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী তাকে চুক্তিভিত্তিক এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যাবতীয় কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এহসান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি অবিস্মরণীয় এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া, গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ করা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
গণতন্ত্র, সম-অধিকার এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে পাওয়া গেছে, তাকে সামনে রেখেই কাজ করতে চান নবনিযুক্ত মহাপরিচালক। তিনি আরও জানান, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি এই জাদুঘরটিকে একটি সমৃদ্ধ জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে রূপান্তর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে জানা যায়, মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া এহসান মাহমুদের পৈতৃক নিবাস বরিশালের মুলাদীতে। স্নাতক ডিগ্রিধারী এই অভিজ্ঞ সাংবাদিক তার দীর্ঘ কর্মজীবনে দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন ও নেত্র নিউজসহ দেশের এবং বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যের জগতেও তার বিশেষ অবদান রয়েছে। কথাসাহিত্য ও কবিতায় তার সৃজনশীল কাজ প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ‘একাত্তরের লালমিয়া’ ও ‘কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল’ এবং কবিতার সংকলন ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’। এছাড়া প্রবন্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা রয়েছে তার নামে।


















