বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৫ নদীর পানি, উপকূলীয় এলাকায় সতর্ক সংকেত
দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে মোট ৫টি নদীর ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, তবে সামগ্রিক ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান। গতকাল যেখানে ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল, আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) তা কমে পাঁচটিতে নেমেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের শুক্রবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে এই পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণে ব্যাপক তারতম্য দেখা গেছে। ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক এলাকার নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, "গতকালের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে ঠিকই, তবে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি মূলত বৃষ্টির ধরনের ওপর নির্ভর করবে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি কেমন হবে।"
কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যেসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তার মধ্যে বান্দরবানের সাঙ্গু নদী অন্যতম। সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জনজীবনে প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের মনু নদের পানি মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদের পানি ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিপৎসীমার বাইরে থাকলেও বেশ কিছু স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট; কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্ট; সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ পয়েন্ট; সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশন।
দেশের সামগ্রিক পানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, মোট ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ৪৩টিতে পানি কমছে এবং বাকি পাঁচটিতে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। উজান ও দেশের ভেতরে বৃষ্টির প্রবণতা আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











