আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও আগামী তিন দিনে নতুন করে পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতেও গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস কেন্দ্রটি জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে এবং এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বেশ কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ফেনী, মুহুরি, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। তবে আগামী এক দিনে পানি সামান্য বাড়লেও পরবর্তী দুই দিন পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে দুর্বল হয়ে উত্তর উড়িষ্যা এবং পার্শ্ববর্তী বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরোক্ষভাবে নদ-নদীর পানির উচ্চতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।