আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ৫০০ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে কমিটি গঠন করে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে চায়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার ও তৃণমূলে দলের ভিত্তি মজবুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সারজিস আলম জানান, ইতোমধ্যে দেশের প্রায় সাড়ে চারশ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫০০ উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি পর্যালোচনা, নেতৃত্বকে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক সমন্বয় সভা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব সমন্বয় সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণার লক্ষ্য রয়েছে। নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের মাধ্যমে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
মাঠপর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা ও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসন সহযোগিতার চেষ্টা করলেও সব জায়গায় তা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিরোধের ঘটনা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর জেলার দলটির শীর্ষ নেতা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




















