জাপান সফরে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে সঙ্গে নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনার জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারেকের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাঁকে সফরসঙ্গী করায় সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আলোচনা না করে একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার বিষয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানির হলরুমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপান আয়োজিত এই সভায় প্রবাসীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা প্রশ্ন রাখেন। অনুষ্ঠানে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে খুব আশ্চর্য লাগল, আমাদের সঙ্গে তারেককে নিয়ে এসেছি এবার। আমজনতার...। গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওকে নিয়ে দেখলাম অনেক কথা। যে ওর কোনো কন্ট্রিবিউশন নাই, ওকে নিয়ে এসে এখানে সরকারের পয়সা নষ্ট। এই দেশে অনেক সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে কোনো আলাপ দেখি না। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেন, জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁপাচ্ছে, জিহ্বাটা বের করে। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক। একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নাই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।
জুলাই-উত্তর তারা বয়ান দিল, মুক্তিযুদ্ধের কথা আর বলা যাবে না, আমি বললাম এটাই সবচেয়ে বড় সার্বভৌমত্বের লড়াই ছিল। এদিকে বুধবারের মতবিনিময় সভায় দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যেকেই বিদেশের মাটিতে দেশের একেকজন মূল প্রতিনিধি বা অ্যাম্বাসেডর। সরকারের পাশাপাশি আপনারা যদি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ভালো দিকগুলো জাপানি ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান সরকার, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে বাংলাদেশের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে এসব বিনিয়োগ দ্রুত দেশে আনতে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়লে দেশে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশু যেন ভালো শিক্ষা পায়, চিকিৎসাসেবা পায়, পেট ভরে ভাত পায় এবং বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে পারে, এতে কারও দ্বিমত থাকতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক, স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা। এ ছাড়া জাপান বিএনপির সভাপতি রেজা মীর, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মনি, সহসভাপতি মাসুম জাকির, ব্যবসায়ী নেতা কাজী সারওয়ার হাবিব, দপ্তর সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়াসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিরা পৌঁছালে প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে তাঁদের স্বাগত জানান। পরে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।


















