নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিতর্কিত ইসলামি বক্তা ইয়াহায়া মাসুসুকাকে। কবরে মৃত ব্যক্তিকে দুই ফেরেশতার প্রশ্ন করা সংক্রান্ত প্রচলিত বিশ্বাস নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। বুধবার ২৮ অক্টোবর বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৭ বছর বয়সী মাসুসুকা সোমবার সন্ধ্যায় কাতসিনা রাজ্যের দুতসিন মা শহরে নিজ বাড়ির সামনে অতিথিদের বিদায় জানাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এই হামলায় তাঁর এক অতিথিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেসব মাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে তিনি ইসলামের প্রচলিত কয়েকটি বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। মাসুসুকা মূলত পবিত্র কোরআনের ভিত্তিতে বক্তব্য দিতেন এবং হাদিসের কিছু বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন। বিশেষ করে মৃত্যুর পর কবরে দুই ফেরেশতা এসে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন বলে ইসলামে ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে বিশ্বাস রয়েছে, তা তিনি মানতেন না। এর আগে হাদিস ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষায় বিশ্বাসের কারণে সম্মানিত ইসলামি পণ্ডিতদের উপহাস করার অভিযোগে তাঁকে নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে কোরআনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন মাসুসুকা। পরে তিনি মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ওমানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ বাড়িতে একটি স্টুডিও স্থাপন করে ধর্মীয় বক্তব্য রেকর্ড করতেন তিনি। সেই বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। বিতর্কিত মতের জন্য পরিচিত হলেও সহিংস উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে তিনি সরব ছিলেন। নাইজেরিয়ায় মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে আন্তধর্মীয় সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে কথা বলতেন তিনি। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর নেটওয়ার্ক ফর গুড গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি তাঁকে পিস অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড দেয়। দুই স্ত্রী ও সাত সন্তানের জনক মাসুসুকা গত দুই দশকে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিহত হওয়া বেশ কয়েকজন পরিচিত মুসলিম ধর্মীয় বক্তার মধ্যে একজন। এ অঞ্চলে ধর্মীয় বক্তাদের হত্যার পেছনে সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের সংশ্লিষ্টতার নজির রয়েছে।

২০০৯ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করা গোষ্ঠীটি তাদের মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় কয়েকজন ধর্মীয় বক্তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। বোকো হারাম পশ্চিমা সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নাইজেরিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থার বিরোধিতা করে এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অনুসরণ করে। নাইজেরিয়ায় কয়েক দশক ধরে জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতা চলছে। গত ২৫ বছরে দেশটিতে হাজারো মুসলিম ও খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেন।