২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ঐতিহাসিক নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’। একই সঙ্গে সেই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরির ছবিও বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যবইয়ের নতুন অধ্যায়ে এই নিবন্ধটি স্থান পাবে। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাসে বিভিন্ন স্তরের মানুষের অবদান নিরপেক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে এনসিসিসির এক সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ‘চট্টগ্রামের প্রতিরোধ ও কালুরঘাটের স্মৃতি’ শিরোনামের এই নিবন্ধটিতে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গতিবিধি এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২৫ মার্চের বিভীষিকাময় রাতের পরিস্থিতি, চট্টগ্রামে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশল এবং পরবর্তীতে পটিয়া এলাকায় মুক্তাঞ্চল গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ এতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন যে, যুদ্ধের সেই চরম সংকটের মুহূর্তে দায়িত্ব গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল এবং তিনি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন।

এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ের ২২ নম্বর গদ্য হিসেবে এই নিবন্ধটি স্থান পাবে। লেখক পরিচিতি অংশে জিয়াউর রহমানকে সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং ‘বীর উত্তম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

নিবন্ধটির আগে একটি বিশেষ ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে। সেখানে ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে ‘দৈনিক দেশ’-এ প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো দলের কৃতিত্ব নয়, বরং এটি ছিল সামগ্রিক জাতিগত সংগ্রামের ফসল। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা এখানে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

নিবন্ধের পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের তৎকালীন সময়ের একটি ঐতিহাসিক ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের কাছে যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, এনসিসিসির সভায় এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।