বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলীকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম করার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ প্রদান করে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিচারপতি গোলাম মর্তুজার মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আজ সকালে সাইফুর রহমানকে প্রথমে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং দুপুর ২টার পর তাকে আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এসময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল উক্ত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় দশক আগে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই অপহরণ ও গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় বিমান বাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান ছিলেন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অফ এয়ার ট্রেনিং-এর ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে এম ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম সামনে আসে। এই একই মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

















