মালদ্বীপের অর্থনীতিতে তীব্র ডলার সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সেখানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বৈদেশিক মুদ্রার এই ঘাটতির ফলে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং দৈনন্দিন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতির কারণ বিশ্লেষণ, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর গভীরে যাওয়া এবং কার্যকর সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে প্রবাসীদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে।
বর্তমানে মালদ্বীপের অর্থনীতি ডলার সংকট এবং স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ার অবমূল্যায়নের কারণে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র ঘাটতির কারণে দেশটির ব্যাংকগুলোতে ডলার লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের, বিশেষ করে লাখের অধিক বাংলাদেশি প্রবাসীকে চরম বিপাকে ফেলেছে। অধিকাংশ বাংলাদেশি কর্মী স্থানীয় মুদ্রায় বেতন পেলেও সরকারি নির্ধারিত রেটে ডলার সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের বাজারদর অনুযায়ী অনেক বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে; খরচ বাড়ছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি হয়ে দাঁড়িয়েছে অত্যন্ত জটিল।
এমন প্রতিকূল পরিবেশে প্রবাসীদের কথা শুনতে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরা। তাদের মতে, এই মতবিনিময় সভাটি একটি সঠিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি তাদের দাবি ও বাস্তব সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। বিশেষ করে বৈধ পথে অর্থ স্থানান্তরের জটিলতা দূর করা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং সহজলভ্য উপায়ে ডলার সংগ্রহের উপায় খোঁজা হবে এই সভার প্রধান আলোচ্য বিষয়। পাশাপাশি, মালদ্বীপে বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা স্থাপন অথবা প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হবে, যা প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেন অনেক সহজ করতে পারে।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ডলারকেন্দ্রিক যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাস্তব জীবনে ঠিক কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা আমি সরাসরি তাদের কাছ থেকে শুনতে চাই। একই সঙ্গে এই সংকটের কোনো কার্যকর ও দ্রুত সমাধান বের করা যায় কি না, সে বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছি।"
অন্যদিকে, মালদ্বীপ সফররত ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক এই সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করার কথা জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "লক্ষাধিক প্রবাসীর কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশে পাঠানোর জন্য একটি বৈধ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং চ্যানেল অত্যন্ত জরুরি। যদি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো সম্ভব হয়, তবে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, অন্যদিকে প্রবাসীরাও হয়রানি মুক্ত হয়ে সহজে অর্থ পাঠাতে পারবেন।"
প্রবাসীরা এখন প্রত্যাশা করছেন, তাদের দীর্ঘদিনের এই আর্থিক লেনদেনের জটিলতা দূর করতে এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও ত্বরান্বিত করতে সরকার ও হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

















