বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো

২৩ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক উত্তরসূরি, জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী, জননেতা শফিকুল গাণি স্বপনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।

প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী, সংগ্রামী ও মেধাবী এই রাজনীতিক ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রংপুর জেলার বর্তমান নীলফামারী জেলায় জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ও মরহুমা সাবেরা রহমানের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

পিতার মৃত্যুর পর তিনি সরাসরি রাজনীতিতে আবির্ভূত হন এবং শূন্য আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর ও নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

শুধু রাজনীতিতেই নয় সাংবাদিকতা ও ক্রীড়াঙ্গনেও ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অসাধারণ দক্ষতার অধিকারী শফিকুল গাণি স্বপন সংবাদপত্র প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক ‘বঙ্গব্যাপী’ ও ‘দ্য উইকলি ফ্রাইডে’ প্রকাশ করেন। দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ২৩ আগস্ট তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব, কর্মময় জীবন ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আজও তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

বিশেষ করে ডোমার–ডিমলা, নীলফামারী ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে শফিকুল গাণি স্বপন ছিলেন একজন আপনজন ও পরিচিত জননেতা। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও কর্ম আজও এলাকার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ন্যাপের বিভিন্ন শাখায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সুন্দরখাতা স্বপন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।