এম এ এহসান রিয়াজ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ঢাকাইয়া ব্রেড এন্ড বিস্কুট কারখানায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরী ও বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাইরে ব্যস্ত সড়ক, চারপাশে উড়ছে ধুলাবালি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। আর এর মাঝেই কয়েকটি টিনশেড ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে রুটি, বিস্কুট, পাউরুটি, কেক,টোস্ট ও চানাচুরসহ অন্তত ৩০ ধরনের খাদ্যসামগ্রী।
সোমবার দুপুরে ঢাকাইয়া ব্রেড এন্ড বিস্কুট কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে এমন নোংরা ও বিপজ্জনক চিত্র দেখা যায়। কারখানাটি উপজেলার ফজুমিয়ারহাট বাজার এলাকায় চর লরেন্স-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের বশির উল্লাহ মিয়ার বাড়ির সামনে অবস্থিত। নাম সাইনবোর্ড ছাড়াই কয়েকটি টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে তৈরী করে বাজারজাত করছে শিশুখাদ্য সহ বিভিন্ন ধরণের খাদ্যসামগ্রী।
অভিযোগ রয়েছে,নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে (বিএসটিআই) ম্যানেজ করে বেকারিটি মাত্র তিনটি পণ্য (রুটি, বিস্কুট ও কেক) উৎপাদনের অনুমতি নিলেও কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে সিঙ্গারা, চানাচুর, ড্রাই কেক, টোস্টসহ অন্তত ৩০ ধরনের খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে তা বাজারজাত করছে।
কারখানার ভিতরে ও বাহিরে উপযুক্ত পরিবেশ না হওয়া সত্ত্বেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগকে ম্যানেজ করেই চলছে তাদের এ কার্যক্রম।
সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে আরো দেখা যায়, শ্রমিকরা অপরিচ্ছন্ন শরীরে খালি হাতে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করছে।বেকারির ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের খাদ্যদ্রব্য। জন্মদিনের পুরানো কেকের ওপর রঙ্গিন কেমিক্যালের প্রলেপ লাগিয়ে সেগুলো নতুন করা হচ্ছে। স্যাঁতসেঁতে মেঝে। নারী-পুরুষ শিশুসহ প্রায় ৭০-৮০ জন শ্রমিক একত্রে কাজ করছে।
জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে ব্যস্ত আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কয়েকটি টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে গড়ে ওঠে কারখানাটি। চারপাশের পরিবেশ যেমন অপরিচ্ছন্ন, তেমনি ভেতরের উৎপাদনস্থলেও চরম নোংরা পরিবেশ। যানবাহন চলাচলের ধুলাবালি রোধে কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সেখানে নেই।কারখানাটি খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের পরিবেশ অনুপযোগী হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নেই কোন তদারকি। এসব খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের জন্য কারখানার পাকা মসৃণ দেয়াল অথবা টাইলস ও পাকা ছাদ এর নিয়ম থাকলেও তার কোনটাই নেই এখানে।
কারখানার ভেতরে খাদ্য তৈরিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। নারী, পুরুষ এমনকি শিশু শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় হাইজেনিক পোশাক, হ্যান্ডগ্লাভস বা মাস্ক ছাড়াই খালি গায়ে ও খালি হাতে খাদ্য তৈরি করছে। যেখানে ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করার কথা, সেখানে গাদাগাদি করে কাজ করছেন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক। এতে নিরাপদ ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, খাদ্যকে দূষণমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত উৎপাদনস্থল পরিষ্কার করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘ঢাকাইয়া বেকারি’র পরিচালক জহির আলম বলেন, কারখানায় কেবল রুটি, বিস্কুট ও কেক তৈরি করা হচ্ছে। তবে অনুমোদনের বাইরে একাধিক পণ্য উৎপাদন ও অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. রিয়াজ জানান, কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, কারখানাটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের টিম পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান জানান, নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কঠোর। শিঘ্রই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















