স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া নানা প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন ব্যক্তি কারখানার সামনে এসে নিজেদের বিএনপির এক শীর্ষ নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। তারা কারখানার ঝুট (বর্জ্য কাপড়) ব্যবসা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এবং সমঝোতা ছাড়া অন্য কাউকে ঝুট না দেওয়ার দাবি জানান।

তবে এ সময় কারখানায় কোনো ধরনের হামলা, ভাঙচুর কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

এ বিষয়ে উপস্থিত কয়েকজন বিএনপি নেতা, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তারা বলেন শান্তিপূর্ণভাবে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝুট ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওকে ‘অস্ত্রের মহড়া’ বলে প্রচার করা হচ্ছে, সেটি তাদের নয় বলেও দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, ভিডিওটি অন্য সময় ও অন্য ঘটনার এবং বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল বহরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাধা দেন। পরে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল ও তার চাচা মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা মো. সেলিমের নেতৃত্বে বিসিক শিল্পনগরীর প্রায় ১০টি কারখানার ঝুট ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল। একই সঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, বর্তমানে বিএনপি নেতা নুরুজ্জামানের প্রভাবেই ওই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে নতুন করে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মো.

মেহেদি হাসান বলেন, মোটরসাইকেল বহরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগেরও সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ কারণে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।