বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড়পাথর এলাকায় সাঙ্গু নদীতে পর্যটকবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় সাত আরোহীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এই দুর্ঘটনায় একজন পর্যটক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যাকে উদ্ধারে বিজিবির নেতৃত্বে সমন্বিত ও ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৫টা ২১ মিনিটে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধীন টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ বড়পাথর এলাকায় তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে সাত আরোহীসহ একটি পর্যটকবাহী নৌকা সাঙ্গু নদীতে ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই রেমাক্রি থেকে থানচিগামী বিজিবির একটি টহলদল তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তাদের দ্রুত প্রচেষ্টায় চারজন পর্যটক, নৌকার মাঝি এবং ট্যুরিস্ট গাইডসহ মোট ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তবে এই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন মো. জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) নামে এক পর্যটক। তিনি ময়মনসিংহের মাসকান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হেলাল উদ্দিন ও মোছা. দেলোয়ারা আক্তারের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ পর্যটককে খুঁজে পেতে বর্তমানে চারটি বিশেষ টহলদল সাঙ্গু নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিবিড় অভিযান পরিচালনা করছে। এই উদ্ধার কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নৌকার মাঝি, ট্যুরিস্ট গাইড এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন।

উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে বিজিবির উদ্যোগে থানচি ফায়ার সার্ভিসকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় ইউনিটে প্রয়োজনীয় ডুবুরি না থাকায় নদীর তলদেশে তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। দলটি পৌঁছানোর পরপরই নদীর তলদেশে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হবে। বিজিবি কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।