মো: আরিফুল ইসলাম

“ঐ তিনি যখন যেখানে আবির্ভূত হন, সেই স্থানই মানুষের পরমতীর্থ” “যে গ্রামে তিনি জন্মেছিলেন, জন্মেছেন বা জন্মিবেন, দরদী প্রাণের দীপক দোলনে নিজ সত্তার আকণ্ঠ অনুবেদনা নিয়ে সেই গ্রামকে নমস্কার কর।” শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের এমন অসংখ্য বাণী ভক্তদের হৃদয়ে ধারণ করে পুণ্য তালনবমী তিথিতে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯ তম শুভ আবির্ভাব তিথি ও ভাগীরথী পদ্মায় পুণ্য ন্স্নান মহোৎসব শুরু হচ্ছে। পাবনা জেলার হিমায়েতপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আশ্রম প্রাঙ্গনে শনিবার থেকে শুরু হয়ে দুই দিন ব্যাপী চলবে এই উৎসব। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উৎসব পালনের জন্য সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, আশ্রম কর্মী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তবৃন্দরা দিনরাত পরিশ্রম করে উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এ'দিকে শুক্রবার বিকালে দুইদিন ব্যাপী এই উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ'সময় সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী তাপস চন্দ্র বর্মণ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

আয়োজকেরা জানান, দুইদিন ব্যাপী মহোৎসবের অনুষ্ঠান মালায় থাকছে ধর্মসভার পাশাপাশি ঊষালগ্নে মাঙ্গলিকী, তারকব্রহ্ম নাম সঙ্কীর্তন, সকাল-সন্ধ্যা বিরতিহীন নাম-ধ্যান, প্রভাতে এবং সন্ধ্যায় সমবেত প্রার্থনা, সদগ্রন্হাদি পাঠ, ভক্তি সংগীত, পুরুষোত্তমের শুভ একোনচত্ত্বারিংশদুত্তরশতম: জন্মলগ্নের স্মৃতিচারণ, (পুরুষোত্তমের দিব্য তনু স্মরণে ৮১ বার পুষ্পাঞ্জলি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শঙ্খধ্বনি, বন্দেপুরুষোত্তমম ধ্বনি ও উলুধ্বনি, সমবেত প্রার্থনা, বিশ্ব কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা, পুরুষোত্তম প্রণাম ও অর্ঘ্যাঞ্জলি নিবেদন, জাতীয় সঙ্গীত সহযোগে জাতীয় পতাকা ও মাতৃবন্দনা সহযোগে সৎসঙ্গ পতাকা উত্তোলন), শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জন্মস্থান প্রদক্ষিণ, ঋত্বিক পরিষদ সভা, যুব সম্মেলন, ঋত্বিক সম্মেলন, কিশোর মেলা, মাতৃ সম্মেলন, কর্মী সম্মেলন, আন্দোবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরণ ও রাতে লোকরঞ্জন অনুষ্ঠান।

দুইদিনের এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ধর্মসভা। যার আলোচ্য বিষয় থাকবে “শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শে পরমতীর্থের ভূমিকা” এবং “শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্য বাণীর আলোকে ধর্মের স্বরূপ ও বাস্তব রূপায়নের উপায়।” দুইদিন ব্যাপী এই উৎসবের অনুষ্ঠান সূচী থেকে জানা গেছে, উৎসবের প্রথমদিন শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ম ও আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: বাহেস উদ্দিন, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো: মাহবুর হাসান, পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যাপক বাসুদেব সাহা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, রাশেদুল রহমান রানা বিশ্বাস, ইলিয়াস আহম্মেদ হিমেল রানা।

উৎসবের দ্বিতীয়দিন রবিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী শ্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপি'র আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা প্রশাসক জনাব আমিনুল ইসলাম, পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা জেলা বার সমিতি'র সভাপতি এডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পাবনা প্রেসক্লাব এর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, পাবনা জেলা বার সমিতি'র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মলয় কুমার দাস রায়।

দুইদিনের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী প্রাণ শঙ্কর দাস (স.প্র.ঋ.) এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী তাপস চন্দ্র বর্মন (স.প্র.ঋ.)। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচকবৃন্দ শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবনী ও আদর্শ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি'র সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র বর্মণ জানান, তালনবমী উৎসবের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আজ থেকে দুইদিন ব্যাপী চলবে এই মহোৎসব। আবহাওয়া ভাল থাকলে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দরা সমবেত হবেন। শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কৃপায় সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উৎসব পালিত হবে বলে আশা করছি। শুক্রবার থেকেই সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তবৃন্দরা আসতে শুরু করেছেন।